👈 দেশে ফিরছে শেখ হাসিনা



 প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ | সময়: ১৭:২৪

বিদেশি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার


দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, তবে দিয়েছেন শর্ত


অনলাইন ডেস্ক


গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরবেন কেবল তখনই—যখন বাংলাদেশে “বৈধ সরকার” প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রকৃত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় থাকবে।


বুধবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি আমার দেশেই ফিরতে চাই, কিন্তু এমন এক বাংলাদেশে, যেখানে বৈধ সরকার রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত।”


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। সেই সময় সহিংস দমন-পীড়ন, গুম, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে তার সরকারের বিরুদ্ধে। এ সব ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে।


ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেখ হাসিনার যেকোনো “বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” প্রচার নিষিদ্ধ করেছে। আদালত তাকে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ জারি করেছেন।


রয়টার্সকে পাঠানো ই-মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, “যদি কোনো অবৈধ সরকার আমার দেশে ক্ষমতায় থাকে, আমি সেখানে ফিরব না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলে তবেই আমি ফিরতে চাই।”


বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে তিনি বা তার পরিবারের কেউ হয়তো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে থাকবেন না। তার মতে, “দলের পুনর্গঠন প্রয়োজন, তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে।”


বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দিল্লি থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছে। তাদের মতে, “জুলাই গণহত্যা”র দায় থেকে কোনোভাবেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত থাকা উচিত নয়।


বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা—তিনি এখনও দেশের রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে চান, যদিও বর্তমানে ক্ষমতার বলয়ে নেই। অন্যদিকে, নতুন সরকারের স্থিতি ও বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্কে তার মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার শর্ত ও অবস্থানকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তাপ বেড়েছে। কেউ দেখছেন এটি তার কৌশলগত অবস্থান, আবার কেউ বলছেন—এটি এক প্রকার আত্মরক্ষামূলক

Post a Comment

0 Comments