কুষ্টিয়ায় বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর ও বের কালোয়া গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে বিএনপির অন্তত ১২ জন নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টার দিকে অজ্ঞাত একদল সশস্ত্র ব্যক্তি বিএনপিপন্থী পরিবারগুলোর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ

বিএনপির স্থানীয় কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করিনি। হঠাৎ রাতের আঁধারে আমাদের বাড়িতে গিয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। আমার ঘরের দরজা ভেঙে আলমারি থেকে টাকা ও গয়না নিয়ে গেছে।”

আরেক ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার পরিবার আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তারা গরু-ছাগল পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এমন ঘটনায় গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছে।”

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের সমর্থকরা এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। এই উত্তেজনার জেরেই রাতের অন্ধকারে এমন হামলা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।

“গ্রামে এখন আতঙ্কের পরিবেশ। অনেকেই রাতের বেলা ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।” — স্থানীয় এক বাসিন্দা

বিএনপির অভিযোগ

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। আমাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রশাসন এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”

তিনি আরও জানান, “হামলার পরপরই কুমারখালী থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, কয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বিএনপি নিজেরাই গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের কোনো কর্মী এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।”

পুলিশের বক্তব্য

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল আলম জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিছু ঘরে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই চলছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজনৈতিক পরিস্থিতি

সম্প্রতি সারাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে কুষ্টিয়ার এই ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, “যদি দ্রুত প্রশাসন উদ্যোগ না নেয়, তাহলে এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে আরও সহিংসতার জন্ম দিতে পারে।”

স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো পক্ষই আইন নিজের হাতে তুলে নেবে না।”

উপসংহার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তের আশ্বাস দিলেও এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনার পর বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বলেছে, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে শান্ত থাকতে হবে।”

দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যেও সাধারণ মানুষ চায়— গ্রামে শান্তি ফিরে আসুক, রাজনীতির নামে আর যেন নিরীহ মানুষ ভোগান্তির শিকার না হয়।

Post a Comment

0 Comments